১. শারীরিক ব্যায়াম করুন
ব্যায়াম করলে শরীর থেকে এন্ডরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো করতে সাহায্য করে। নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো, যোগব্যায়াম বা যে কোনো শারীরিক কার্যক্রম মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর।
২. গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করুন
ধীর ও গভীর শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে আপনি প্যারাসিম্প্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় করতে পারেন, যা রিল্যাক্স হতে সাহায্য করে। ৪-৭-৮ শ্বাস নেওয়ার কৌশল চেষ্টা করুন:
- ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিন
- ৭ সেকেন্ড ধরে ধরে রাখুন
- ৮ সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়ুন
৩. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
ঘুমের অভাব মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন ৭-৯ ঘণ্টা গভীর ঘুমের চেষ্টা করুন। শোবার আগে স্ক্রিন এড়িয়ে চলা এবং একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করা উপকারী হতে পারে।
৪. মেডিটেশন ও মাইন্ডফুলনেস চর্চা করুন
প্রতিদিন কিছুক্ষণ মেডিটেশন বা ধ্যান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি মনকে প্রশান্ত করে এবং নেতিবাচক চিন্তা কমাতে সাহায্য করে।
৫. সংগীত শুনুন
শান্ত ও মনোমুগ্ধকর সংগীত মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। প্রাকৃতিক শব্দ বা ধ্যানের সংগীত শুনলে দ্রুত রিল্যাক্স হওয়া যায়।
৬. সঠিক খাবার গ্রহণ করুন
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার (ডার্ক চকলেট, বাদাম, সবুজ শাকসবজি)
- ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (মাছ, চিয়া সিড, আখরোট)
- ভিটামিন বি ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার (কলা, কাজু, দই)
৭. নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন
পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা কাছের কারও সাথে মন খুলে কথা বলুন। আপনার আবেগ প্রকাশ করলে মানসিক চাপ কমে যায়।
৮. শখের চর্চা করুন
যে কাজ আপনাকে আনন্দ দেয়, যেমন—বই পড়া, ছবি আঁকা, রান্না করা বা বাগান করা—সেগুলোতে মনোনিবেশ করুন।
৯. সময় ব্যবস্থাপনা করুন
অতিরিক্ত কাজের চাপ কমাতে টুডু লিস্ট তৈরি করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে করুন। সময়মতো বিরতি নিন।
১০. ইতিবাচক চিন্তা করুন
নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করুন এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখার চেষ্টা করুন। নিজেকে আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী হতে উদ্বুদ্ধ করুন।
আপনার যদি নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে পেশাদার কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া ভালো হতে পারে।